শ্রমিকের অধিকার
বাংলাদেশে কাজ করলে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ আপনার মজুরি, কর্মঘণ্টা, ছুটি ও চাকরির নিরাপত্তা রক্ষা করে। নিয়োগকর্তা নির্ধারিত সময়ে মজুরি দিতে বাধ্য, কেবল আইনসম্মত কারণে মজুরি কর্তন করতে পারেন, স্থায়ী শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার আগে নোটিশ দিতে হয়, এবং বার্ষিক, অসুস্থতা ও উৎসব ছুটি দিতে হয়।
নিয়োগকর্তা কখন আমার মজুরি পরিশোধ করতে বাধ্য?
নিয়োগকর্তা নির্ধারিত সময়ে এবং সম্পূর্ণভাবে মজুরি পরিশোধ করতে বাধ্য — সাধারণত মজুরি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সপ্তম কর্মদিবসের মধ্যে। ইচ্ছামতো মজুরি আটকে রাখা যায় না। কেবল আইনে নির্দিষ্ট কারণে — যেমন অনুমোদিত জরিমানা, অনুপস্থিতি বা অগ্রিম আদায় — মজুরি কর্তন বৈধ; শাস্তি হিসেবে নয়।
সূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬
আমাকে কি নোটিশ ছাড়া চাকরিচ্যুত করা যায়?
সাধারণত না। স্থায়ী শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করতে হলে লিখিত নোটিশ দিতে হয় — মাসিক বেতনভুক্ত শ্রমিকের জন্য ১২০ দিন এবং অন্যদের জন্য ৬০ দিন — অথবা নোটিশের পরিবর্তে মজুরি দিতে হয়। চাকরিচ্যুতি আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে হতে হবে। অসদাচরণের কারণে বরখাস্ত ভিন্ন বিষয় এবং এর আগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রয়োজন।
সূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬, ধারা ২৬
আমি কোন কোন ছুটির অধিকারী?
শ্রম আইনে শ্রমিকরা বেতনসহ ছুটির অধিকারী — বার্ষিক (অর্জিত) ছুটি, অসুস্থতাজনিত ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটি ও উৎসব ছুটি। দিনের সংখ্যা শিল্প ও চাকরির মেয়াদের ওপর নির্ভর করে, তবে এসব ছুটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করা যায় না। অনেক শ্রমিক সাপ্তাহিক ছুটি এবং যোগ্য নারী শ্রমিকরা মাতৃত্বকালীন সুবিধারও অধিকারী।
সূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬