সব বিষয়
~5 মিনিট পড়া7টি প্রশ্নোত্তর

শ্রমিকের অধিকার

বাংলাদেশে কাজ করলে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ আপনার মজুরি, কর্মঘণ্টা, ছুটি ও চাকরির নিরাপত্তা রক্ষা করে। নিয়োগকর্তা নির্ধারিত সময়ে মজুরি দিতে বাধ্য, কেবল আইনসম্মত কারণে মজুরি কর্তন করতে পারেন, স্থায়ী শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার আগে নোটিশ দিতে হয়, এবং যোগ্য নারী শ্রমিক মাতৃত্বকালীন সুবিধা পেতে পারেন। আদালতবিডি ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণ করে না।

নিয়োগকর্তা কখন আমার মজুরি পরিশোধ করতে বাধ্য?

নিয়োগকর্তা নির্ধারিত সময়ে এবং সম্পূর্ণভাবে মজুরি পরিশোধ করতে বাধ্য — সাধারণত মজুরি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সপ্তম কর্মদিবসের মধ্যে। ইচ্ছামতো মজুরি আটকে রাখা যায় না। কেবল আইনে নির্দিষ্ট কারণে — যেমন অনুমোদিত জরিমানা, অনুপস্থিতি বা অগ্রিম আদায় — মজুরি কর্তন বৈধ; শাস্তি হিসেবে নয়।

সূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬

আমাকে কি নোটিশ ছাড়া চাকরিচ্যুত করা যায়?

সাধারণত না। স্থায়ী শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করতে হলে লিখিত নোটিশ দিতে হয় — মাসিক বেতনভুক্ত শ্রমিকের জন্য ১২০ দিন এবং অন্যদের জন্য ৬০ দিন — অথবা নোটিশের পরিবর্তে মজুরি দিতে হয়। চাকরিচ্যুতি আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে হতে হবে। অসদাচরণের কারণে বরখাস্ত ভিন্ন বিষয় এবং এর আগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রয়োজন।

সূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬, ধারা ২৬

আমি কোন কোন ছুটির অধিকারী?

শ্রম আইনে শ্রমিকরা বেতনসহ ছুটির অধিকারী — বার্ষিক (অর্জিত) ছুটি, অসুস্থতাজনিত ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটি ও উৎসব ছুটি। দিনের সংখ্যা শিল্প ও চাকরির মেয়াদের ওপর নির্ভর করে, তবে এসব ছুটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করা যায় না। অনেক শ্রমিক সাপ্তাহিক ছুটি এবং যোগ্য নারী শ্রমিকরা মাতৃত্বকালীন সুবিধারও অধিকারী।

সূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬

মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা কী?

যোগ্য নারী শ্রমিক সাধারণত প্রসবের আগে ও পরে নির্দিষ্ট সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন সুবিধার আলোচনায় আসেন (প্রায় ৮+৮ সপ্তাহ)। প্রসবের আগে কমপক্ষে প্রায় ৬ মাস কাজসহ যোগ্যতার শর্ত ও জীবিত সন্তান সংক্রান্ত সীমা আলোচিত হয়। মৌখিক বা লিখিত নোটিশ দিন; বিস্তারিত আপনার চুক্তি ও আইনজীবী দিয়ে নিশ্চিত করুন।

সূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬, অধ্যায় IV

কর্মক্ষেত্রে আঘাত পেলে কী অধিকার আছে?

কর্মকালীন দুর্ঘটনায় শারীরিক আঘাতে নিয়োগকর্তার ক্ষতিপূরণ দায় শ্রম আইনের অধ্যায় XII-এ আলোচিত হয় (যেমন ধারা ১৫০ সংক্রান্ত আলোচনা)। লিখিতভাবে জানান, মেডিকেল রেকর্ড রাখুন, এবং শ্রম আদালত/আইনজীবী নিন। কিছু ব্যতিক্রম ও অক্ষমতার সময়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে — অঙ্ক আদালতবিডি নির্ধারণ করে না।

সূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬, ধারা ১৫০ ও অধ্যায় XII

জোর করে পদত্যাগপত্রে সই করালে কী করব?

চাপে সই করা পদত্যাগ সবসময় বৈধ বলে ধরা যায় না। প্রমাণ (বার্তা, সাক্ষী) রাখুন, অবিলম্বে লিখিত আপত্তি জানান, এবং 16699 বা আইনজীবী নিন। Guided Help-এর চাকরিচ্যুতি ফ্লো দেখুন। মিথ্যা স্বীকারোক্তিতে সই করবেন না।

সূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ — সাধারণ অনুশীলন

ম্যানেজার/প্রশাসনিক পদে কি সব বিধান প্রযোজ্য?

কিছু ব্যবস্থাপক বা প্রশাসনিক পদে শ্রম আইনের সব বিধান একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। আপনার নিয়োগপত্র, কাজের ধরন ও আইনজীবীর পরামর্শ দিয়ে কভারেজ যাচাই করুন। অনুমান করে অধিকার ত্যাগ করবেন না।

সূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬

উৎস: Bangladesh Labour Act 2006 (incl. Ch. IV maternity; Ch. XII injury)। পর্যালোচক: Pending lawyer panel review। পরবর্তী পর্যালোচনা: 2026-10-01।

আদালতবিডি আইনি তথ্য দেয়, আইনি পরামর্শ নয় এবং কোনো ল ফার্ম নয়। এআই উত্তর ভুল হতে পারে। নির্দিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশের যোগ্য আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন। আইনি তথ্য, পরামর্শ নয়

শ্রমিকের অধিকার | আদালতবিডি